বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, রাজশাহীতে যুবক গ্রেপ্তাররাস্তার পাশে পিঠা বিক্রিতেও লাগবে নিবন্ধনঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট চালু, জেদ্দায়ও বাড়ছে ফ্লাইটআগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকারবুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে সিসিইউতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসাত ইসলামী দল নিয়ে গঠিত হলো ‘সমমনা ইসলামী জোট’প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সেরা পরামর্শ দিয়েছিলেন: ইশরাকসাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে: তথ্যমন্ত্রীদাম্মাম বিমানবন্দরে ফের হুতি হামলা, নিহত ১ফ্রান্সের বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পসহ বিদেশি নেতাদের ‘স্টুপিড’ মন্তব্য, ক্ষুব্ধ মাখোঁইরানের হামলার নিন্দা, গাজায় যুদ্ধবিরতি চায় কাতার-ফ্রান্সবাংলাদেশিসহ ২০ দেশের ৭২১ নাগরিককে ফেরত পাঠাল কম্বোডিয়াপরিবারসহ সৌদি আরব ছাড়তে মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মীকে নির্দেশপারস্য উপসাগরে ৪ জাহাজে ইরানের হামলা, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারিলক্ষ্মীপুরে ১ হাজার ৩২০ পিস ইয়াবাসহ মা-মেয়ে গ্রেপ্তার, বাবা পলাতকসাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলিশীতের দিনে পারফিউম ব্যবহারে বদল, সুগন্ধ দীর্ঘস্থায়ী রাখতে যা করবেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলাদেশের জন্য আর অপেক্ষার সময় নেই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলাদেশের জন্য আর অপেক্ষার সময় নেই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলাদেশের জন্য আর অপেক্ষার সময় নেই
সর্বশেষ উপলব্ধ: সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬ ০৩:০৬ অপরাহ্ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনা বাড়ছে। কেউ এটিকে চাকরি হারানোর আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন,  কেউ দেখছেন নতুন ব্যবসা ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনা হিসেবে। বাস্তবতা হলো—এআই কোনো দূরের প্রযুক্তি নয়। এটি ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যম, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, তৈরি পোশাক, ই-কমার্স এবং সরকারি সেবার কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি এআই আসবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো—আমরা এই পরিবর্তনের জন্য মানুষকে কতটা প্রস্তুত করছি?

দেশে বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। কিন্তু অনেকেই এখনও কোডিং, ডেটা বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল ডিজাইন, ভাষা-প্রযুক্তি কিংবা এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক প্রশিক্ষণের বাইরে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়লেও সেটি এখনো প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। ফলে প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ও প্রযুক্তি নির্মাতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।

এআইকে শুধু বড় প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার হিসেবে দেখলে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। কৃষক যেন আবহাওয়া ও বাজারদরভিত্তিক পরামর্শ পান, ছোট ব্যবসায়ী যেন বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারেন, হাসপাতাল যেন রোগীর তথ্য দ্রুত সাজাতে পারে, শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত ব্যক্তিগত শেখার সহায়তা পায়—এআইয়ের ব্যবহার সেদিকেই যেতে হবে।

তবে সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও কম নয়। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, ভুয়া ছবি-ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অ্যালগরিদমিক বৈষম্য এবং চাকরির ধরন বদলে যাওয়ার মতো প্রশ্ন এখনই মোকাবিলা করা দরকার। প্রযুক্তি এগোবে, কিন্তু নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত না থাকলে সেই অগ্রগতি অসম ও অনিরাপদ হবে।

সরকারের উচিত এআই-নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন, বাংলা ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি উন্নয়ন, গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ দিতে হবে।

 এআই যুগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে শুধু সস্তা শ্রম নয়, দক্ষ মানুষ। তাই প্রযুক্তির ভয় নয়—প্রযুক্তি বোঝা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করাই হতে হবে আমাদের লক্ষ্য।

মুহাম্মদ আশিকুল আলম

প্রতিষ্ঠাতা, প্রকাশক ও সম্পাদক, দ্যা মিরর নিউজ

মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।