মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ

ইরান যুদ্ধে থমকে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি

ইরান যুদ্ধে থমকে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি
ইরান যুদ্ধে থমকে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি
সর্বশেষ উপলব্ধ: মার্চ ০৩, ২০২৬ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে হামলা চালাবে বলে হুমকিও দিয়েছে তেহরান। 

 

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।

 

ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং যেকোন জাহাজ যদি যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে আইআরজিসি ও ইরানের নৌবাহিনী তাদের জ্বালিয়ে দেবে বা আক্রমণ করবে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক পুরো বিশ্বের প্রায় ২০% তেল শিপিং হয়, তাই এর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান ও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, ইরান, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য আনা-নেয়া হয়।

চলমান যুদ্ধের জেরে প্রণালির পাশের রাষ্ট্র ওমান থেকেও ওমান উপসাগরীয় পথে পরিবহন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দেশগুলোর একটি জাপান। দেশটির আমদানি করা তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। ইতোমধ্যে টোকিওর আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি ছাড়িয়েছে আড়াইশ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি সংকটের কারণে জাপানের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ জিডিপি এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিতেও।

 

জাপানের পরই রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির মূল উদ্দিপক রাষ্ট্র চীন। দেশটির মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই পথ দিয়ে। বাকি জ্বালানি আসে রাশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়া থেকে। হরমুজে সরবরাহ বন্ধ থাকলে চীনের পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সংকট টানা তিন মাস চললে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ থেকে নেমে আসতে পারে সাড়ে ৩ শতাংশে। আর সংকট এক বছর স্থায়ী হলে অর্থনৈতিক মন্দায় পড়ার শঙ্কা ৬৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে চীন এখনই প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে।

 

চীনের অর্থনীতিতে আঘাত মানে পুরো বিশ্বে আঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য কমে দাঁড়াতে পারে সাড়ে ৪'শ বিলিয়ন ডলারে, ইউরোপের সঙ্গে কমতে পারে সাড়ে তিনশ বিলিয়নে। বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি সূচক কমতে পারে প্রায় ২৬ শতাংশ, আর বাজার থেকে হারিয়ে যেতে পারে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

সবমিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর এই ২০ শতাংশ তেল সরবরাহই এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় গলার কাঁটা। যুদ্ধ ও অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, পুরো বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার পাশার দানই পাল্টে যেতে পারে।

আশিক/মি.

 

 

 358
মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।