উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে অবকাঠামো, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও মূল্য সংযোজনমূলক শিল্পে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙা।
তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সুশাসন, ন্যায়সংগত আইন ও স্থিতিশীল নীতিমালা অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পাঁচ খাত
অজয় বাঙার বক্তব্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের কথা উঠে এসেছে। এগুলো হলো—অবকাঠামো, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, পর্যটন এবং মূল্য সংযোজনমূলক শিল্প।
এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
সুশাসন ও নীতিগত স্থিতিশীলতা
অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থায়নই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর প্রতিষ্ঠান, সুশাসন এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা। বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তব্যের সরবরাহ করা অংশ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের সরকারি খাতের অর্থায়নের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বেসরকারি বিনিয়োগ ও অর্থায়ন
উন্নয়ন কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম অনুযায়ী, মুদ্রার বিনিময় হারের ঝুঁকি কমানো, অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নের ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে আরও বেশি বেসরকারি মূলধন আকৃষ্ট করা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে সরকার, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
জ্বালানি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন
বক্তব্যের আরেকটি অংশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবিদ্যুৎ, গ্যাস ও পারমাণবিক জ্বালানির প্রসঙ্গ শোনা যায়। তবে এই অংশের অডিও অস্পষ্ট হওয়ায় জ্বালানি খাত নিয়ে তাঁর নির্দিষ্ট ঘোষণা বা পরিকল্পনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের বিষয়গুলোও বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে উঠে এসেছে।
তরুণদের কর্মসংস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ
তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা উন্নয়ন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রয়োজনীয় শিক্ষা, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সুযোগের অভাবে তরুণদের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না।
এ কারণে কর্মসংস্থানমুখী বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।