চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরতে পারেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানিয়েছেন সিনিয়র নেতারা। তবে কীভাবে কোন পদ্ধতিতে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান! বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
২০১৪ ও ২০১৬ সালে তারেক রহমান সৌদি আরবে ওমরাহ ও হজ পালন করেছিলেন। তখন দেশ থেকে খালেদা জিয়াও হজে গিয়েছিলেন। সৌদি আরবে দেখা হয়েছিল মা-ছেলের। সেখান থেকে তারেক রহমান আবার লন্ডন ফিরে যান। পাসপোর্টহীন তারেক রহমান সে সময় ব্রিটিশ সরকারের দেয়া ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে বিদেশ গিয়েছিলেন বলে আলোচনা হয়েছিল।
তার কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই। পাসপোর্টের জন্যে এখনো আবেদনও করেননি। তবে পাসপোর্ট ছাড়াও ট্রাভেল পাসে দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান। যেমনি দেশে ফিরেছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

ট্রাভেল পাস হলো একটি অস্থায়ী ভ্রমণ নথি, যা বিদেশে অবস্থানরত পাসপোর্টহীন কোনো বাংলাদেশিকে শুধু একবার বাংলাদেশে ফিরতে ব্যবহার করতে দেয়া হয়। তবে এটি পাসপোর্ট নয়। এটি দিয়ে অন্য দেশে ভ্রমণ করা যায় না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন অনুবিভাগ শাখা থেকে জানা যায়, তারেক রহমানের কাছে পাসপোর্ট থাকার প্রয়োজন নেই, চাইলে খুব সহজেই দেশে ফিরতে পারবেন তিনি। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন তিনি।
তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে গেলেও পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার পাসপোর্ট আর নবায়ন হয়নি। তিনি কোন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যে রয়েছেন, সে বিষয়টি কখনো খোলাসা করেনি বিএনপি।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছিলেন, তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-মেয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন। ব্রিটিশ হোম অফিস বাংলাদেশ হাইকমিশনে সেই পাসপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছে।
তখন বিএনপি তার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিল, তারেক রহমান যদি পাসপোর্ট ফেরতই দিয়ে থাকেন তাহলে সরকার যেন তা দেখায়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের পাসপোর্ট দেখানো হয়নি।
তবে নবায়ন না হওয়ায় তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের বৈধ পাসপোর্ট এখন নেই। ফলে তাকে নতুন করে পাসপোর্ট নিতে হবে নতুবা ট্রাভেল পাসেই ফিরতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে এমন আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে সরকার ভ্রমণ বিষয়ক কাগজপত্র দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে যখনই প্রয়োজন হবে, তার ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্ট সম্পর্কিত বিষয়গুলো সরকার দেখবে।
আশিক/মি.
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।