বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ

পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়ের গভীর প্রতীক

পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়ের গভীর প্রতীক
পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়ের গভীর প্রতীক
সর্বশেষ উপলব্ধ: এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১০:৩৬ অপরাহ্ন

পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক গভীর প্রতীক। ভাষা, সংস্কৃতি ঐতিহ্যের যে স্রোত শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ভূখণ্ডে প্রবাহিত হয়েছে, তারই এক উজ্জ্বল প্রকাশ এই নববর্ষ। নতুন বছরের প্রথম সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কেবল ক্যালেন্ডার বদলাই না, বরং আমাদের মানসিকতা, আশা স্বপ্নকেও নতুন করে সাজাই।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পহেলা বৈশাখের চেহারায়ও পরিবর্তন এসেছে। একসময় এই উৎসব ছিল গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িতহালখাতা, মেলা, লোকসংগীত, কৃষিজীবনের আনন্দ। এখন শহুরে আয়োজনে এর বিস্তার ঘটেছে, যা একদিকে ইতিবাচক, অন্যদিকে কিছু প্রশ্নও তৈরি করে। আমরা কি ধীরে ধীরে উৎসবের গভীরতা হারিয়ে শুধু বাহ্যিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছি?

পহেলা বৈশাখের মূল শক্তি তার অসাম্প্রদায়িকতা সার্বজনীনতা। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি নির্বিশেষে এই দিনটি সকলের। এই চেতনা আজকের বিশ্বে আরও প্রাসঙ্গিক, যেখানে বিভাজন বৈরিতা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলা নববর্ষ আমাদের শেখায়সংস্কৃতিই হতে পারে ঐক্যের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

তাই প্রয়োজন উৎসবকে কেবল আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার অন্তর্নিহিত বার্তাকে ধারণ করা। ব্যবসায়িকীকরণ বা প্রদর্শনীর বাইরে গিয়ে আমাদের উচিত এই দিনকে আত্মশুদ্ধি, সামাজিক সংহতি এবং মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের উপলক্ষ হিসেবে দেখা।

নতুন বছর আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। সেই সম্ভাবনাকে অর্থবহ করতে হলে পহেলা বৈশাখের চেতনাসরলতা, সাম্য এবং সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসাআমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হতে হবে। তাহলেই এই উৎসব কেবল একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে উঠবে একটি জীবন্ত দর্শন।

 

মুহাম্মদ আশিকুল আলম

সম্পাদক

দি মিরর নিউজ।

 23
মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।