বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ

সিন্দুরিয়া রুটে মাদক সরবরাহের অভিযোগ, ইয়াবাসহ কারবারি গ্রেপ্তার

সিন্দুরিয়া রুটে মাদক সরবরাহের অভিযোগ, ইয়াবাসহ কারবারি গ্রেপ্তার
সিন্দুরিয়া রুটে মাদক সরবরাহের অভিযোগ, ইয়াবাসহ কারবারি গ্রেপ্তার
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ০৪, ২০২৬ ০৩:৪৪ অপরাহ্ন

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সরবরাহের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সাভারের বেদে পাড়া থেকে আশুলিয়ার সিন্দুরিয়া হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক ছড়িয়ে পড়ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আশুলিয়া থানার বিশেষ অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ মো. মারুফ (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে আশুলিয়ার সিন্দুরিয়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার মারুফ সাভার মডেল থানার মানতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্বপনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের দিকনির্দেশনায় এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শফিউল আলম সোহাগ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে মারুফকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের দাবি, বেদে পাড়া থেকে সিন্দুরিয়া হয়ে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ, জামগড়া, কাঠগড়া, ইয়ারপুর, নরসিংহপুর, জিরাবো ও বাইপাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হলেও কিছুদিন পর একই চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক একাধিক স্তরে পরিচালিত হয়। একটি অংশ মাদক সংগ্রহ করে, অন্য অংশ পরিবহন করে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে একজন গ্রেপ্তার হলেও চক্রের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয় না।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মারুফ শুধু খুচরা বিক্রেতা নাকি বৃহত্তর কোনো নেটওয়ার্কের সদস্য, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইয়াবার উৎস, সরবরাহকারী এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকমুক্ত আশুলিয়া গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

মাদকবিরোধী কার্যক্রম সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাদক সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পারলেই এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।

 6
মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।