শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ
নিখোঁজের একদিন পর মিলল কুবি শিক্ষকের ছেলের মরদেহমানবপাচার ও চোরাচালান রোধে নতুন আইনের কার্যকর প্রয়োগের তাগিদদেশে প্রথমবার ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপনযশোর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে রিয়ন-শাহরিয়ারআশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর টেকসই নয়, বেশিরভাগে মানুষ থাকে না: ত্রাণমন্ত্রীনিজের বাসভবন থেকেই সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ শুরু প্রধানমন্ত্রীরহতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না, দাবি মেনে নিন: জামায়াত আমিরপাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১হুতিদের ঘাঁটিতে সৌদির টানা হামলা, ২৪ ঘণ্টায় ২৬ আঘাতভারতকে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি, নতুন আইনে সই ট্রাম্পেরজন্মদিনে স্মরণ: পর্দা ছাড়িয়ে হৃদয়ে আজও সালমান শাহতিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ উদ্বোধন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে গ্যাসনিরাপদ খাবার নিশ্চিতে জয়পুরহাটে মোবাইল ফুড ল্যাবের অভিযান

৫ আগস্ট: আত্মত্যাগের চেতনা, নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার

৫ আগস্ট: আত্মত্যাগের চেতনা, নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার
৫ আগস্ট: আত্মত্যাগের চেতনা, নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ০৫, ২০২৬ ০৭:৪০ অপরাহ্ন

ইতিহাসে কিছু দিন কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়; হয়ে ওঠে একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অংশ। বাংলাদেশের জন্য ৫ আগস্ট তেমনই এক দিন। জুলাই–আগস্টের উত্তাল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এদিন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। এই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে অনেকে "জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থান" বা "গণঅভ্যুত্থান" হিসেবে উল্লেখ করেন। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এটি নিঃসন্দেহে ছিল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় উদ্বুদ্ধ অসংখ্য মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।

এই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিলেন শিক্ষার্থী ও তরুণরা, যাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল জবাবদিহি, ন্যায়বিচার, নাগরিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি। পথে নেমে তাঁরা যে সাহস দেখিয়েছেন, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হয়ে থাকবে।

কিন্তু এই অর্জনের মূল্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, অসংখ্য পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে। তাঁদের আত্মত্যাগ কোনো রাজনৈতিক স্লোগানের বিষয় নয়; এটি জাতির কাছে এক গভীর নৈতিক দায়। তাঁদের স্মরণ করার সর্বোত্তম উপায় কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা যেখানে নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবিক মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে।

ইতিহাসের শিক্ষা হলো—গণআন্দোলন পরিবর্তনের দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনকে টেকসই করে প্রতিষ্ঠান। তাই ৫ আগস্টের তাৎপর্য কেবল ক্ষমতার পালাবদলে সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী করার অঙ্গীকারের সঙ্গেও জড়িত। রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে, ইতিহাসের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সত্য অনুসন্ধান, সংলাপ এবং আইনের শাসনের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।

একটি জাতি তখনই পরিপক্ব হয়, যখন সে তার ইতিহাসকে আবেগের পাশাপাশি প্রজ্ঞা দিয়েও মূল্যায়ন করতে পারে। ৫ আগস্ট আমাদের সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। এই দিনটি যেন বিভেদের নয়, বরং আত্মসমালোচনা, শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা হয়ে ওঠে।

আজ প্রয়োজন প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি; ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাষ্ট্র নয়, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রাষ্ট্র; ভয় নয়, স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশ; অনিশ্চয়তা নয়, আইনের শাসনের নিশ্চয়তা। তাহলেই জুলাই–আগস্টের আত্মত্যাগ অর্থবহ হবে, আর ৫ আগস্ট ইতিহাসের পাতায় কেবল একটি রাজনৈতিক মোড় নয়, একটি দায়িত্বশীল, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রার প্রতীক হয়ে থাকবে।

সম্পাদক. দ্যা মিরর নিউজ.

 

মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।