ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে আজও উত্তপ্ত গাজীপুর, সাভারের আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জ। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের গাড়িসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেয়া হয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে বিভিন্ন মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও জিরাবো এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেলা সোয়া ১১টার দিকে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা।
গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার শিকার হন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের দুই সংবাদকর্মী। এর আগে সকাল ৯টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় এক বিজিবি সদস্য আহত হন।
এ ছাড়া গাজীপুরের সফিপুর ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা, যারা বিভিন্ন পোশাক কারখানার মালিক, তারা এ খাতে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছেন। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অপতৎপরতা চালাচ্ছে। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানায় ভাঙচুর ও নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্দোলনে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীরা যুক্ত হয়েছেন বলে তথ্য রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।