টানা ৯ মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে পর্যটকদের রাতযাপনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না থাকায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
পরিবেশ সংরক্ষণে পর্যটকদের সরকার নির্ধারিত ১২টি বিধিনিষেধ মানতে হবে। অনুমোদিত নৌযানে যাতায়াত, অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দেয়া বাধ্যতামূলক। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও নিষিদ্ধ। পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে। বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারবে না। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের কোনো আবেদন জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
দ্বীপে রাতযাপনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি; আগের প্রজ্ঞাপনের শর্ত বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পর্যটন কর্তৃপক্ষ, জাহাজমালিক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে পরিবেশকর্মীরা বলছেন, প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের যাতায়াতে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়তে পারে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নতি হয়েছে। এবার বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনে পৃথক দুটি তদারকি দল কাজ করবে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।