
২০২৬ বিশ্বকাপে হতাশাজনক অভিযানের পর ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন নেইমার। একই সঙ্গে সান্তোসে তার আচরণ নিয়ে প্রকাশিত ‘বিরক্তিকর’ সংবাদগুলোরও জবাব দিয়েছেন তিনি।
নেইমার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তিনি জাতীয় দলকে বিদায় জানাচ্ছেন। সান্তোসের এই তারকা আরও বলেন, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে যে দাবি করা হয়েছে, তিনি নাকি ভিলা বেলমিরোর ড্রেসিংরুমে তরুণ সতীর্থদের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছেন বা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন—এসব প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অত্যন্ত বিরক্তিকর। তিনি এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নেইমার দাবি করেন, দলের মধ্যে বিভেদ তৈরির উদ্দেশ্যে ‘অসৎ’ কিছু প্রতিবেদনে এসব সম্পূর্ণ মনগড়া গল্প ছড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক এবং বিরক্তিকর। কিন্তু এর জন্য আমি দায়ী নই। এসব গল্প খুব দ্রুত অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ম্যাচের পর আমি শুধু বলেছিলাম, আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে এবং এতটা ঢিলেঢালা মানসিকতা নিয়ে খেলা চলবে না। শাপেকোয়েন্সেকে পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, এভাবে জয়ের ম্যাচ ড্র করে আসা মেনে নেওয়া যায় না। আমি শুধু এটুকুই বলেছি। আরও বলেছিলাম, আগামী বছর তাদের বিপক্ষে আবার আমাদের দেখা হবে—কী বোঝাতে চেয়েছি, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। অধিনায়ক হিসেবে এসব কথা বলার পূর্ণ অধিকার আমার আছে। লুকাস ভেরিসিমো এবং গাবিগোলও তখন কথা বলেছিল।’
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের বিদায়ের পরই জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নেইমার। তখন অনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও বলেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানে আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’ বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে নিজের দীর্ঘ ও গৌরবময় ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে গতকাল ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘দেশের কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বছরের পর বছর কাঁধে বহন করার পরও জাতীয় দলের জন্য নিজের অবদান নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ বা অনুশোচনা নেই।’ পরিষ্কারভাবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা এখানেই শেষ।’ সান্তোসের ৪-২ গোলে ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালকে হারানোর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্পষ্টভাবেই নেইমার বলেন, ‘আমি ইতিহাস গড়েছি। এই জার্সি গায়ে খেলতে পেরে আমি অসীম আনন্দ পেয়েছি। দেশের জন্য আমি আমার রক্ত, আমার জীবন—সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। হলুদ জার্সির সম্মানের জন্য আমি সবসময় লড়েছি। কিন্তু এখন আর আমি সেটা করতে চাই না।’ এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রাজিল ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার এবার পুরো মনোযোগ দেবেন ক্লাব ফুটবলে, নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসের হয়ে নতুন অধ্যায় রচনায়। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে হলুদ জার্সি গায়ে শেষ গোল করেছেন নেইমার। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করেও সেদিন তিনি নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। মাঠে কেঁদেছিলেন। ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর্দা নেমে আসার পর গভীর বেদনা আর আবেগ তিনি সামলাবেন কীভাবে!
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।