দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আজ রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অনুমোদনের পর কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৮ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। শুরুতে চুল্লির শক্তি কম রাখা হবে। এ সময় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ধাপে ধাপে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে।
পরবর্তী ধাপে টারবাইন ও জেনারেটরের কার্যক্রম পরীক্ষা করে জাতীয় গ্রিডে সংযোগের প্রস্তুতি নেয়া হবে। সব পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকল্পের পরিচালক ডা. মো. কবীর হোসেন বলেন, ‘আমরা রবিবার রাত থেকে ফিশন রিয়েকশন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি।’ বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় যাচাই করেই প্রথম ইউনিটে বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও দুটি অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে সময়সূচি নির্ভর করবে কারিগরি পরীক্ষা, প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর।
রূপপুর প্রকল্পে দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। গত ৩ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি লোড করার কার্যক্রম শুরু হয় চলতি বছরের মে মাসে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম প্রকল্পটিতে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি একনেক প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা অনুমোদন করে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থায়ন আসছে রাশিয়ার ঋণ থেকে।
নজরুল ইসলাম বাঁধন
পাবনা জেলা প্রতিনিধি
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।