ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও খলচরিত্রের জন্য পরিচিত প্রদীপ রাওয়াত আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর বুধবার (৫ আগস্ট) ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
অভিনেতার মৃত্যুর খবর ভারতীয় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ব্যবস্থাপক সিদ্ধার্থ তিওয়ারি। তিনি জানান, কিছুদিন আগে প্রদীপ রাওয়াতের ক্যানসার আবার ফিরে আসে। এরপর এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই অভিনেতা।
তার মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক শিল্পী ও নির্মাতা।
১৯৫২ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্মগ্রহণ করেন প্রদীপ রাওয়াত। অভিনয়জীবন শুরু করেন টেলিভিশনের মাধ্যমে। বি আর চোপড়ার জনপ্রিয় ধারাবাহিক মহাভারত-এ অশ্বত্থামার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন। পরে বড় পর্দায় খলচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন।
১৯৮৫ সালে অ্যায়তবার সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। নব্বইয়ের দশকে অগ্নিপথ, কয়লা, সরফরোশ ও মেজর সাব সহ একাধিক আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত লগান সিনেমায় দেবা সিং সোধি এবং ২০০৮ সালে আমির খান অভিনীত গজনি সিনেমায় নির্মম খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এর আগে ২০০৫ সালে সূর্য অভিনীত তামিল গজনি তেও একই চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান।
চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে হিন্দি, তেলেগু, তামিল, নেপালিসহ বিভিন্ন ভাষার শতাধিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন প্রদীপ রাওয়াত। তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি, গভীর কণ্ঠস্বর এবং শক্তিশালী খলচরিত্রের অভিনয় তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় অভিনেতায় পরিণত করেছে।
বলিউডে সর্বশেষ ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছাবা সিনেমায় দেখা যায় প্রদীপ রাওয়াতকে।
অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি সেরা খলঅভিনেতা বিভাগে ফিল্মফেয়ার (তেলুগু) পুরস্কার এবং নন্দী পুরস্কার অর্জন করেন।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।