শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ

রাজধানীর বাজারে কমেনি ভোগান্তি, চড়া নিত্যপণ্যের দাম

কমেনি বাজারের চাপ, সবজি-ডিম-মুরগির দামে ভোগান্তি
রাজধানীর বাজারে কমেনি ভোগান্তি, চড়া নিত্যপণ্যের দাম
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ০৭, ২০২৬ ০২:২৭ অপরাহ্ন

কিছুটা কমলেও এখনো নাগালের বাইরে অনেক সবজি, কাঁচা মরিচের দাম আকাশছোঁয়া। একই সঙ্গে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দামে ভুগছেন ক্রেতারা। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে চাপ বেড়েছে সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দাম কিছুটা কমলেও আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি বাজার পরিস্থিতি। বিশেষ করে কাঁচা মরিচসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম এখনো ক্রেতাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে আছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। তবে আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি বাজারে একই মরিচের দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত।

বিক্রেতারা জানান, আমদানি করা কাঁচা মরিচের দাম কম থাকলেও শুল্ক, পণ্য খালাস, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে বাজারে আসার পর দাম বেড়ে যায়। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে পটল, ঢেঁড়স ও কচুর দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। তবে গোল বেগুন ১২০ টাকা, শিম ২২০ টাকা এবং গাজর-টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি দরে।

সবজি বিক্রেতাদের ভাষ্য, উৎপাদন এলাকাগুলোতে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

বর্তমান বাজারে একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। প্রতি কেজি মুলা ৮০ টাকা, জালি ৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

ডিমের দামেও নেই স্বস্তি

মধ্যবিত্ত পরিবারের আমিষের অন্যতম ভরসা ডিমের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। হাঁসের ডিমের দামও বেড়ে ডজনপ্রতি ১৮০ টাকায় উঠেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডিমের দাম বাড়ছে।

বাড়ছে মুরগির দাম

মুরগির বাজারেও একই চিত্র। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ১৮০ টাকা।

এদিকে সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৩৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। দেশি মুরগির দাম আরও বেশি, প্রতি কেজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ৭৫০ টাকা।

মাছের বাজারেও বাড়তি চাপ

মাছের বাজারেও কমেনি দাম। চাষের রুই ও কাতলা মাছ কিনতে প্রতি কেজিতে দিতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। দেশি নদীর মাছের দাম আরও বেশি। অনেক মাছই ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজির নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সব মিলিয়ে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এখনো ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আয় বাড়ার তুলনায় বাজার খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাপে রয়েছেন ক্রেতারা।

 33
মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।

জনমত জরিপ

দ্যা মিরর নিউজ এর জনমত জরিপ পাঠকের জন্য এই মুহূর্তে নেই !