শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ

গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকার একসঙ্গে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকার একসঙ্গে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী
গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকার একসঙ্গে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ০৭, ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ন

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিকপক্ষ ও সরকার যৌথভাবে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি কার্যকর মিডিয়া ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পাবেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম যেমন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, তেমনি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও স্বাধীন গণমাধ্যম বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিত্তি। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তবে গণমাধ্যম শিল্পকে টেকসই করতে এর অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষ্য, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসংগত মুনাফা না পায়, তাহলে এ শিল্প দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন ব্যবস্থা ছাড়া বিজ্ঞাপন বাজারও কাঙ্ক্ষিতভাবে সম্প্রসারিত হবে না।

 

বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে গণমাধ্যম খাত নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতমুখী নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার। এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অধিকার নিশ্চিত হবে।

তথ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডেইলি ওয়া‌দা সম্পাদক শফিকুল আলম।

স্বাগত বক্তব্য দেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু।

 30
মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।

জনমত জরিপ

দ্যা মিরর নিউজ এর জনমত জরিপ পাঠকের জন্য এই মুহূর্তে নেই !