সংবেদনশীল প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের ‘হানিট্র্যাপে’ পড়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় ভারতের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গত ৩০ মে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে তিহার কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
তদন্তকারীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে ওই কর্মকর্তার পরিচয় হয়। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন এক সময়ে তাদের যোগাযোগ শুরু হয়। পরে অনলাইন চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। পুলিশের সন্দেহ, ওই নারী পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগের সময় ওই কর্মকর্তা ডিজিটাল মাধ্যমে সংবেদনশীল নথি ও প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য পাঠিয়েছেন। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য বা নথি পাচার হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।
এ ছাড়া একটি সন্দেহজনক মোবাইল অ্যাপ ইনস্টলের বিষয়েও তদন্ত চলছে। ওই কর্মকর্তা এক সহকর্মীকে একটি ফোনে অ্যাপটি ইনস্টল করতে বলেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। অ্যাপটি স্পাইওয়্যার বা রিমোট-অ্যাক্সেস ম্যালওয়্যার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা জানতে ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা এখন তথ্যের প্রকৃত গ্রহীতা, বিদেশি কোনো হ্যান্ডলার এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। মামলায় গত ৩০ জুলাই আদালতে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে।
তবে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় তদন্তে ওঠা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও পরবর্তী তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।