মার্কিন বিমানবাহীর রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়ার চেষ্টা করেছেন মার্কিন সেনারা। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস তীরের দেখা না মিলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাদের পরিবার ও মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা।
ইরান যুদ্ধের কারণে রেকর্ড সময় সাগরে অবস্থান করা ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনার মধ্যে তীব্র মানসিক স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সামরিক খাতের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদপত্র নেভি টাইমস এবং স্টার্স অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজটিতে চরম প্রতিকূল পরিবেশ ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে কয়েকজন নাবিক সমুদ্রের পানিতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।
স্টার্স অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক আবেগঘন মতবিনিময় সভায় পরিবারগুলো তাদের উদ্বেগের কথা জানান। ২০০ জন স্বজনের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সভায় এক স্ত্রী জানান, তার স্বামী ওই দিনই তাকে মেসেজে লিখেছেন–তিনি আশা করছেন যেন কাল তার আর ঘুম না ভাঙে।
ইরানের বিরুদ্ধে পঞ্চম মাসের মতো যুদ্ধ অভিযানে থাকা এই রণতরীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ক্রুদের দুর্দশা বর্ণনা করে তিনি লেখেন, ছাতা ধরা গোসলখানা, নষ্ট টয়লেট, সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ থাকা লন্ড্রি ব্যবস্থা, দিনের পর দিন গরম পানির অভাব, আর খাবারের নামে জোটে কেবল আধা কাপ ভাত আর দুটি রুটি। নেই কোনো সাবান, ডিওডোরেন্ট বা টুথপেস্ট।
আফগানিস্তান ও ইরাকে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক আর্মি রেঞ্জার এবং কলোরাডোর ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো সতর্ক করে বলেছেন, লিংকনে থাকা সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলেছে।
তবে এসব অভিযোগকে ভুয়া খবর বলে উড়িয়ে দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে চলতি সপ্তাহে লেভিন বলেন, এই নারী-পুরুষেরা দেশের সেবা করতেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। দেশ হিসেবে তাদের ন্যূনতম প্রাপ্য— একটু গরম পানি, একটি সচল টয়লেট আর এক বেলা ভালো খাবার। হেগসেথ এটুকুর সংস্থানও করতে পারছেন না, অথচ তাদের পরিবারগুলোর চোখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যাবাদী বলতে তার বাঁধছে না।
সেনাদের পানিতে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের ফলে আমাদের সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। সে বিষয়ে আমরা অবগত। তাদের এই সহনশীলতা ও ত্যাগের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান।
আশিক/মি.
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।