ভারতের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাদের পাঁচজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ভয়াবহ এই ঘটনায় মা-বাবাকে নিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন বাংলাদেশি ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা অনিক কুণ্ডু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অনিক জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পাশের একটি ভবনে আগুন লাগে। তারা ছিলেন ভবনের তৃতীয় তলায়। তার সঙ্গে ছিলেন বাবা-মা। পাশের কক্ষের এক দম্পতি, তাদের সন্তান এবং আরও একজন বাংলাদেশিও আটকা পড়েন।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সিঁড়িতে ঘন ধোঁয়া জমে যায়। ফলে তারা নিচে নামতে কিংবা ছাদে উঠতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে বাথরুমের ভেন্টিলেটর খুলে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করেন তারা। নিজেদের অবস্থান জানিয়ে বলেন, তারা আটকা পড়েছেন এবং শ্বাস নিতে পারছেন না।
অনিকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ভবনের কাচ ও এসি বিস্ফোরিত হতে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কিছুক্ষণ আগে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন। তিনি বলেন, বাথরুমে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল তারা আর বাঁচবেন না।
অনিক আরও জানান, তার চোখের সামনে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে মৃত ও আহতদের নিয়ে যেতে দেখেছেন। আগুনের পর ভবনে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কোনো হোটেলেও তখন জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে সারারাত বাইরে কাটিয়ে সকালে অন্য একটি হোটেলে ওঠেন তারা। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগের হোটেল থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করে আনেন।
তিনি জানান, তারা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে অনেক মানুষ মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশুও রয়েছে। তার ধারণা, নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি হতে পারেন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অনিক বলেন, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন তা কল্পনাও করেননি। সিঁড়ি ও লিফটে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখার মতো ছিল।
অনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ঢাকা কিংবা কলকাতা—প্রতিটি শহরেই যেন অগ্নিকাণ্ড একেকটি মরণফাঁদ। ব্যবসায়ীরা শুধু অর্থ উপার্জনের দিকে না তাকিয়ে মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
শেষে সবাইকে একে অপরের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে অনিক বলেন, ভয়াবহ এমন ঘটনায় কারও সঙ্গে হয়তো শেষবারের মতো দেখা হয়ে যেতে পারে। তাই জীবিত থাকতেই মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা উচিত।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।