কানাডার বিভিন্ন ব্যাংকে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৪৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। এ ঘটনায় নূর ইসলাম পরিবারের নয় সদস্যের করসংক্রান্ত বিষয় অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের কানাডার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলারের বেশি লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে ১৬৫টি আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন ও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের তথ্য রয়েছে।
সিআইসির এক কর্মকর্তা জানান, সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে নূর ইসলামের পরিবারের আর্থিক অনুসন্ধানের কোনো সম্পর্ক নেই। এপ্রিল মাসে বিএফআইইউয়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং ২০ জুন পরিবারের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়।
এদিকে কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নূর ইসলাম ৯৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে আনেন। তার সম্পদের পরিমাণ ১০৪ কোটি টাকা দেখিয়ে ৬৯ লাখ টাকা আয়কর দেয়ার তথ্য রয়েছে। আগের অর্থবছরে তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছিল ১৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
নূর ইসলাম বাংলাদেশে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। কানাডাতেও তার ব্যবসা রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে একক ও যৌথ হিসাব থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ টস বন্ডের পরিচালক হিসেবেও নূর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের নাম রয়েছে।
কর্মকর্তাদের দাবি, কানাডায় থাকা নাগরিকত্ব ও স্থাবর সম্পদের তথ্য আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি। অর্থ স্থানান্তরের নথিও রিটার্নের সঙ্গে দেয়া হয়নি বলে তারা জানান। তবে নূর ইসলাম পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থপাচার বা কর ফাঁকির অভিযোগ এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি; অনুসন্ধান শেষে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।