মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই কাঁচাবাজারে উত্তাপ, তদারকির দাবিবঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, বাংলাদেশে আঘাতের শঙ্কা কতটা? কমতে পারে গরমবিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীনিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্প-তারেকের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হচ্ছে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীফাইবার লাইন কাটায় যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচলে বড় বিঘ্ন, বাতিল শত শত ফ্লাইটঅবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে মালয়েশিয়ায় আটক ৫৭ হাজারের বেশিরাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুতিনের দলের বড় জয়পাবনায় জামায়াত কর্মী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারের দাবিজ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই পরিবহন ভাড়ায় আগুন, নতুন ভাড়া ঘোষণার আগেই নগরে বাসভাড়া বৃদ্ধিজয়পুরহাটে ৭৩ কেজি কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ আটক ৪

রুচিহীন রাজনৈতিক বক্তব্যের আড়ালে কী?

রুচিহীন রাজনৈতিক বক্তব্যের আড়ালে কী?
রুচিহীন রাজনৈতিক বক্তব্যের আড়ালে কী?
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ০৭, ২০২৬ ০৮:৫০ অপরাহ্ন

রাজনীতির ভাষা একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্তির চেয়ে কটূক্তি এবং নীতির চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ বেশি আলোচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাক্তিদের ঘিরে কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য সেই উদ্বেগকেই সামনে এনেছে।

গণতন্ত্রে সরকারের সমালোচনা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ভুলত্রুটি থাকলে তার কঠোর সমালোচনাও হবে। কিন্তু সমালোচনা আর বিদ্বেষমূলক তুচ্ছতাচ্ছিল্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার জন্য যদি যুক্তির পরিবর্তে অবমাননাকর ভাষা বেছে নেয়া হয় তবে তা বক্তার রাজনৈতিক শক্তির নয় বরং দুর্বলতারই পরিচয় বহন করে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নিয়ে লাগামহীন মন্তব্য শেষ পর্যন্ত শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ব্যক্তি আসবেন যাবেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করা কোনো দায়িত্বশীল রাজনীতির অংশ হতে পারে না।

প্রশ্ন উঠতেই পারে। দেশের মানুষ যখন দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং সংস্কার নিয়ে উত্তর খুঁজছে তখন কিছু রাজনীতিক কেন ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি বেছে নিচ্ছেন? এর উত্তর হয়তো খুব জটিল নয়। বাস্তব সমস্যার সমাধান নিয়ে কথা বলা কঠিন। ব্যক্তিগত আক্রমণ করা সহজ। নীতি নিয়ে বিতর্কে প্রস্তুতি লাগে। কটূক্তি করতে লাগে না।

বাংলাদেশের রাজনীতি ইতোমধ্যে দীর্ঘ সংঘাতের মূল্য দিয়েছে। নতুন বাস্তবতায় জনগণ আরও পরিণত। আরও সচেতন। তারা শোরগোল নয়। সমাধান দেখতে চায়। বিদ্বেষ নয়। ভিশন দেখতে চায়।

রাজনীতিবিদদেরও মনে রাখা প্রয়োজন। করতালি দিয়ে জনসমর্থন কেনা যায় না। সাময়িক হাস্যরস সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতার প্রমাণ দেয়া যায় না। ইতিহাসে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে প্রজ্ঞা। শালীনতা এবং নেতৃত্বের গুণ। কটূক্তি নয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে যাবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভাষার ওপর। তাই সময়ের দাবি একটাই। মতের লড়াই হোক। নীতির লড়াই হোক। কিন্তু রাজনীতিকে যেন আর রুচিহীন বক্তব্যের প্রতিযোগিতায় পরিণত করা না হয়।

সম্প্রতি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে 'হট্টগোল কী বার্তা দেয়, তাও ভাববার বিষয়!

 সম্পাদক,দ্যা মিরর নিউজ।

মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।