জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর এক দিনের মধ্যেই পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার মুভারের ভাড়া ট্রিপপ্রতি ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। একই সময়ে নতুন বাসভাড়া নির্ধারণের আগেই চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পরিবহন মালিকদের দাবি, বাড়তি জ্বালানি খরচের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ায় অনেক গাড়িকে খালি ফিরতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি, টোল, চালক-শ্রমিক ও খালি গাড়ি ফেরানোর খরচ বেড়েছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে একটি ট্রাকের জ্বালানি খরচই অন্তত ৩ হাজার টাকা বেড়েছে বলে জানান এক পরিবহন মালিক। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পরিবহন ভাড়া আরও বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনেও বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি ব্যয়ের সঙ্গে চুক্তির দর সমন্বয় করে নতুন রেট নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছেন বার্থ অপারেটররা। তাদের হিসাবে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দরপত্র আহ্বানের সময় ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৮০ টাকা। সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির পর তা বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা।
এদিকে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন রুটে নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ২ নম্বর গেট-আগ্রাবাদ রুটে ১৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকা এবং ২ নম্বর গেট-অক্সিজেন রুটে ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। মুরাদপুর-আন্দরকিল্লা রুটেও ১৫ টাকার পরিবর্তে ১৮ থেকে ২০ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সিএনজি গ্যাসে চলাচলকারী বাস ও হিউম্যান হলারেও বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নতুন বাসভাড়া নির্ধারণে বিআরটিএর সঙ্গে বৈঠকে দূরপাল্লার বাস ও মহানগর এলাকায় কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে নতুন ভাড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দেশে নতুন দরে ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ ও অকটেন ১৬৫ টাকা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও শিপিং ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, জ্বালানি ব্যয় বাড়ার প্রভাব পরিবহন ও বন্দর খরচ পেরিয়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামেও পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।