বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ

আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পরিবর্তন করল নাউরু

আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পরিবর্তন করল নাউরু
আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পরিবর্তন করল নাউরু
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ০৪, ২০২৬ ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পরিবর্তন করেছে। এখন থেকে দেশটির নতুন নাম হবে ‘নাওয়েরো প্রজাতন্ত্র। স্থানীয় ভাষার উচ্চারণ ও বানানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাওয়েরোর প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যাডিয়াং জানিয়েছেন, দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতিমূলক সংকেত বা কোডও পরিবর্তন করা হবে। এতদিন দেশটির নাগরিকদের ‘নাউরুয়ান বলা হলেও এখন থেকে তাদের ‘নাওয়েরো নামে পরিচিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার সরকারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটি তার ঐতিহ্যবাহী নামের কাছে ফিরে যাচ্ছে। বিদেশিদের উচ্চারণে অসুবিধার কারণে এতদিন ‘নাউরু নামটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশটির ঐতিহ্য, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়কে আরও যথাযথ সম্মান জানানো হবে। পরে পার্লামেন্টের দুই দফা ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।

নাওয়েরোতে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এর আগে রয়েছে টুভালু ও ভ্যাটিকান সিটি।

একসময় জার্মানির উপনিবেশ থাকা নাওয়েরো পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনের অধীনে ছিল। ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। ১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনির কারণে দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে এ শিল্প ধসে পড়ায় ১৯৯০-এর দশকে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি নাওয়েরো। এ সংকট মোকাবিলায় নাগরিকত্বের বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে নিরাপদ এলাকায় মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার।

 

প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং বলেন, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতীয় গৌরবের নতুন সূচনা হবে। শুরুতে এ বিষয়ে গণভোটের পরিকল্পনা থাকলেও পরে আলোচনার মাধ্যমে সরকার গণভোট ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে ঔপনিবেশিক বা পুরোনো পরিচয় থেকে সরে এসে কয়েকটি দেশ তাদের নাম পরিবর্তন করেছে। ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় এসওয়াতিনি এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে ‘তুর্কিয়ে নাম ব্যবহার শুরু করে।

নাম পরিবর্তনের ফলে নাওয়েরোর জাতীয় বিমান ও জাহাজের নামেও পরিবর্তন আনতে হবে। দেশটির সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে নতুন নামের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে দেশটির নতুন নাম ‘নাওয়েরো হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর ওয়েবসাইটেও দেশটির নতুন নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

 27
মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।