জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এ কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের উপস্থাপন করা রেকর্ড অনুযায়ী, ওই ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে সাদ্দাম হোসেনের কাছে জানতে চান। জবাবে সাদ্দাম জানান, কর্মসূচিতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, “মারো না কেন? মারো না কেন ওদের?” সাদ্দাম পুলিশি অবস্থানের কথা জানালে তিনি আবার বলেন, “তা মারতেছ না কেন? নিচ থেকে হালকা হয়ে যাবে তো।”
কল রেকর্ডে আরও শোনা যায়, সাদ্দাম আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার ইচ্ছার কথা জানান। তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধার কারণে শাহবাগ বা আন্দোলনকারীদের অবস্থানের দিকে যেতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাদ্দাম ফোনে বলেন, তারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শাহবাগের দিকে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। এ সময় ওয়ালি আসিফ ইনান জানান, পুলিশ ও বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি তাদের এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিপ্লব তো এইটা বলার কথা না।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি।
গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে গত ২ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।