যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে আবারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন গ্র্যামিজয়ী সংগীতশিল্পী অলিভিয়া রদ্রিগো। নারী স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘প্ল্যানড প্যারেন্টহুড’-এর সরকারি অর্থায়ন বন্ধের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন এই তারকা।
অলিভিয়া রদ্রিগো বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় মার্কিন সংগীতশিল্পী। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড ও সাতটি বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে।
সম্প্রতি তার আসন্ন নারীকেন্দ্রিক সংগীত উৎসব ‘ডেইজি চেইন ফিল্ডস’-এর ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়। ভিডিওতে অলিভিয়াকে তার জনপ্রিয় গান ‘মাই ওয়ে’-এর সঙ্গে নাচতে দেখা যায়।
ভিডিওটির শুরুতে লেখা ছিল, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্ল্যানড প্যারেন্টহুড’-এর অর্থায়ন বন্ধে আইন স্বাক্ষর করার পর থেকে প্রায় ৩০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।”
এরপর অলিভিয়া ও অন্যান্য নারীদের গম্ভীর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তারা নাচের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিবাদের বার্তা তুলে ধরেন। ভিডিওর শেষ দিকে লেখা আসে, “তবুও আমরা যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।”
‘প্ল্যানড প্যারেন্টহুড’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি অলাভজনক স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ, গর্ভধারণ, যৌনরোগ ও গর্ভপাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। তবে গর্ভপাত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মুখে রয়েছে সংস্থাটি।
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরের পর সংস্থাটির সরকারি অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ‘প্ল্যানড প্যারেন্টহুড’-এর সমর্থক হিসেবে পরিচিত অলিভিয়া রদ্রিগো। এই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে তিনি সংস্থাটির ‘ক্যাটালিস্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।
অলিভিয়ার নতুন ভিডিও ও তার অবস্থানের প্রশংসা করেছেন ‘প্ল্যানড প্যারেন্টহুড ফেডারেশন অব আমেরিকা’র প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্সিস ম্যাকগিল জনসন। তিনি বলেন, গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে অলিভিয়ার সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রজনন স্বাধীনতা ও স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব নিয়ে মানুষকে সচেতন করছেন।
এর আগে গত জুনেও অভিবাসন সংস্থা ‘আইসিই’ নিয়ে বিতর্কের সময় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অলিভিয়া রদ্রিগো।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।