জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কড়া সমালোচনার পর জাপান সাগরের দিকে একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। বিষয়টি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
২০১৯ সাল থেকে নিজেদের অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আসছে পিয়ংইয়ং। সম্প্রতি জাপান সরকারের প্রকাশিত এক নিরাপত্তা মূল্যায়নেও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
চলতি সপ্তাহে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এর আগে বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেন, জাপানের সামরিক নীতির পরিবর্তনের জবাবে পিয়ংইয়ং অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে।
জেসিএস জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপান সাগর বা পূর্ব সাগরের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর ধরন ও সক্ষমতা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানায়, উত্তর কোরিয়া থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় একটি বস্তু উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে এটি জাপানের উপকূলীয় এলাকায় কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে নিশ্চিত করেছে টোকিও।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
চলতি মাসের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ বলেছে, যেকোনো উস্কানির জবাব দিতে দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।