হরমুজ প্রণালীকে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ইরানেরই ছিল, আছে এবং থাকবে। কখন প্রণালী বন্ধ বা খোলা হবে, সেই সিদ্ধান্তও তেহরানই নেবে। খবর : আনাদোলু এজেন্সি
শুক্রবার নিউইয়র্কের পুলিশ একাডেমি সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্সে দেয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে যাচ্ছি।
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। তার দাবি, ইরানের কৌশলগত পরাজয় মেনে না নেয়া পর্যন্ত প্রণালীর ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং কখন এটি বন্ধ বা খোলা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়ই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কেপলার ডেটা অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে এবং কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের চলাচল দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার নয়টি এবং বুধবার পাঁচটি জাহাজ পার হয়েছে। অথচ আগস্ট মাসে গড়ে প্রতিদিন ১২টি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ কার্যকর করতে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তাদের বাহিনী ৬২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে, তিনটি অচল করেছে এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার বলেছেন, জাহাজ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মোতায়েনের মাধ্যমে এই অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
অবরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বাড়ছে।
আশিক/মি.
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।