অবশেষে ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে এলো অ্যাপল। নতুন iPhone Duo হলো প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন। বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায় ফোনটি। বন্ধ অবস্থায় এতে ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে, আর খুললে পাওয়া যাবে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ভেতরের ডিসপ্লে। বড় স্ক্রিনের কারণে ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও একসঙ্গে একাধিক কাজ করার সুবিধা বাড়বে।
ডিসপ্লেতে ১২০Hz ProMotion
দুই ডিসপ্লেতেই রয়েছে ProMotion প্রযুক্তি, Always-On Display এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিট আউটডোর ব্রাইটনেস। ভেতরের ডিসপ্লেতে ন্যানো-টেক্সচার ফিনিশ থাকায় আলো ও প্রতিফলন কমবে এবং ভাঁজের দাগও তুলনামূলক কম দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল।
A20 Pro চিপ ও শক্তিশালী পারফরম্যান্স
iPhone Duo-তে ব্যবহার করা হয়েছে A20 Pro চিপ, যা iPhone 18 Pro মডেলেও রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে কাস্টম ভ্যাপর-চেম্বারভিত্তিক উন্নত কুলিং ব্যবস্থা। অ্যাপলের দাবি, iPhone 17 Pro-এর তুলনায় দীর্ঘসময় ব্যবহারে পারফরম্যান্স ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ভালো হতে পারে। চিপটিতে ৬-কোর CPU, ৭-কোর GPU এবং নতুন Neural Engine রয়েছে।
ক্যামেরায় ৪৮MP-এর দুই ক্যামেরা
পেছনে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের Fusion Main এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের Fusion Ultra Wide ক্যামেরা। Main ক্যামেরায় optical-quality 2x Telephoto সুবিধা রয়েছে। কম আলোতেও উন্নত ছবি তোলার জন্য বড় সেন্সর, দ্রুত অ্যাপারচার ও sensor-shift optical image stabilization দেয়া হয়েছে।
ভিডিওর ক্ষেত্রে ৪K 120fps Dolby Vision রেকর্ডিং, Cinematic effects এবং Audio Mix-এর সুবিধা রয়েছে। ভাঁজযোগ্য ডিজাইনের কারণে Duo Preview, Smart Take, Kid Cue এবং Duo FaceTime-এর মতো নতুন ক্যামেরা সুবিধাও পাওয়া যাবে।
মাল্টিটাস্কিংয়ে বড় সুবিধা
৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লের কারণে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ বা উইন্ডো ব্যবহার করা সহজ হবে। অ্যাপল iOS 27-কে ফোল্ডেবল স্ক্রিনের জন্য নতুনভাবে সাজিয়েছে। ভিডিও দেখা, কাজ করা কিংবা একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় স্ক্রিনটি সুবিধা দেবে।
Apple Pencil সাপোর্ট
iPhone Duo-তে USB-C Apple Pencil ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে নোট নেয়া, স্কেচ করা ও ডকুমেন্টে মার্কআপের মতো কাজ করা যাবে। এই সুবিধা বছরের শেষ দিকে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল।
ডিজাইন ও নিরাপত্তা
ফোনটিতে Grade 5 titanium ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে নতুন precision hinge, Ceramic Shield 2 এবং IP68 রেটিং। অ্যাপলের দাবি, হিঞ্জটি ১০০টির বেশি উপাদান দিয়ে তৈরি এবং ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লের স্থায়িত্ব বাড়াতে ভেতরে অতিরিক্ত কাঠামোগত সুরক্ষা দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার জন্য Face ID-এর পরিবর্তে Side button-এ Touch ID দেয়া হয়েছে।
ব্যাটারি ও চার্জিং
ফোনটিতে দুই পাশে আলাদা উচ্চ-ক্ষমতার ব্যাটারি রয়েছে, যা একসঙ্গে একটি ব্যাটারি সিস্টেমের মতো কাজ করে। অ্যাপলের হিসাবে দুই ডিসপ্লে সমানভাবে ব্যবহার করলে এক চার্জে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে। শুধু ভেতরের ডিসপ্লেতে ভিডিও দেখলে ৩১ ঘণ্টা এবং বাইরের ডিসপ্লেতে ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক সম্ভব।
প্রায় ২০ মিনিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ এবং MagSafe বা Qi2 দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ওয়্যারলেস চার্জ করা যাবে।
eSIM-নির্ভর ফোন
iPhone Duo-তে কোনো ফিজিক্যাল SIM কার্ড ব্যবহার করা যাবে না। এটি eSIM-only ফোন। একসঙ্গে দুটি eSIM সক্রিয় রাখা যাবে এবং একাধিক eSIM সংরক্ষণ করা যাবে।
এতে Apple-এর N1 wireless chip, Wi-Fi 7, Bluetooth 6 এবং C2 cellular modem রয়েছে।
স্টোরেজ ও দাম
iPhone Duo-এর স্টোরেজ শুরু হচ্ছে ২৫৬GB থেকে। ৫১২GB, ১TB ও সর্বোচ্চ ২TB সংস্করণও থাকছে। যুক্তরাষ্ট্রে দাম শুরু হচ্ছে ১,৯৯৯ ডলার থেকে। প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর।
সুবিধা কী কী?
অসুবিধা কী হতে পারে?
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দাম—১,৯৯৯ ডলার থেকে শুরু হওয়ায় এটি সাধারণ আইফোনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।
ফিজিক্যাল SIM না থাকায় eSIM-নির্ভরতা কিছু ব্যবহারকারীর জন্য অসুবিধা হতে পারে। এছাড়া ফোল্ডেবল ফোনের হিঞ্জ ও ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে দীর্ঘদিন ব্যবহারে কেমন পারফর্ম করবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বাস্তব ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য পেতে সময় লাগবে।
কার জন্য উপযোগী?
যারা আইফোনের পাশাপাশি বড় স্ক্রিনে ভিডিও দেখা, গেম খেলা, মাল্টিটাস্কিং, নোট নেয়া ও কাজ করার সুবিধা চান, তাদের জন্য iPhone Duo আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে শুধু সাধারণ ব্যবহার বা ক্যামেরার জন্য ফোন কিনতে চাইলে এর উচ্চ দাম বিবেচনা করে অন্য আইফোন মডেলও তুলনা করে দেখা যুক্তিযুক্ত।
যুবায়ের/মি.

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।