ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় চাপে পড়েছে সৌদি আরব। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সৌদি আরবের সংকট বাড়িয়েছে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ইয়েমেন নীতি নিয়ে মতপার্থক্যও দেশটির কৌশলগত অবস্থানকে জটিল করেছে। ইয়েমেনে আমিরাতের সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদিকে নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
এদিকে, হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় হতাহত হওয়ার পাশাপাশি বিমান চলাচল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ওয়াশিংটন সৌদির নিরাপত্তায় সহায়তা দিলেও হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হুতিদের কূটনৈতিক যোগাযোগ সৌদি আরবের উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরব আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৫ অক্টোবর যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরের বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এই সহযোগিতা সংঘাত কতটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের সংঘাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কার্যকর রাজনৈতিক সমাধানও প্রয়োজন। বিভক্ত মিত্রশক্তি ও হুতিদের সঙ্গে বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি না হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।