সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ English
English
সর্বশেষ
প্রায় ৩ দিন পর চালু হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটসাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি’ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ইসিরডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যুপাহাড়সম ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমিরতিন দশকের রেকর্ড পতন ভারতের বন্ডবাজারে, চাপে অর্থনীতিইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ইঙ্গিত ট্রাম্পেরতেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, রাস আল-খাইমাহর সব সৈকত বন্ধ ঘোষণাপদ্মা ব্যারেজের উদ্বোধন জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে: পানিসম্পদমন্ত্রীপাবনায় শিশু কলি হত্যা: অভিযুক্তের বাড়ি গুঁড়িয়ে এবার মাটি লুটডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৯৮, মামলা ৪১দিনভর উত্তেজনার পর রাতে দাফন সাঈদীর মামলার বাদীরবাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভা করা হবে: প্রতিমন্ত্রী১ নভেম্বর থেকে খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক প্রবেশে থাকছে সীমা‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য, সেই যুবক ৭ দিনের রিমান্ডে

বন্যার ভয়ংকর স্রোত, প্রধান শিক্ষকের এক সিদ্ধান্তে বাঁচল ১,৬৪৩ প্রাণ

বন্যার ভয়ংকর স্রোত, প্রধান শিক্ষকের এক সিদ্ধান্তে বাঁচল ১,৬৪৩ প্রাণ
বন্যার ভয়ংকর স্রোত, প্রধান শিক্ষকের এক সিদ্ধান্তে বাঁচল ১,৬৪৩ প্রাণ
সর্বশেষ উপলব্ধ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

ভয়াবহ বন্যার পানি স্কুলের দিকে ধেয়ে আসছে—এমন সতর্কবার্তা পেয়েই এক মুহূর্ত দেরি করেননি নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকার ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দ্রুত বের করে দেন তিনি। তাঁর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে প্রাণে বেঁচে যান ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী।

গেল ২৬ আগস্ট সকালে এক বন্ধুর কাছ থেকে ফোন পান ইংরেজির শিক্ষক দাওয়াদি (৪৭) ।

বন্ধু তাকে জানান, পাহাড়ি নদীতে ভয়াবহ স্রোত নেমে আসছে এবং গ্রামের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।

তখন তিনতলা স্কুল ভবন ও এর আশপাশে ছিলেন ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এরই মধ্যে পাহাড়ি নদীগুলো ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।

প্রথমে দাওয়াদি মনে করেছিলেন, কংক্রিটের তৈরি স্কুল ভবনটি নিরাপদ। ভবনটি নদীর চেয়ে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে ছিল। তবে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ছুটে এসে পানি দ্রুত বাড়ার খবর দিলে তিনি আর দেরি করেননি।

সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেন দাওয়াদি। পাশাপাশি স্কুলবাসের চালকদের ফোন করে বাস ঘুরিয়ে আনতে বলেন। তবে একজন চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলেও কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান, সেই বাসটি সেতু পার হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে, তারা বড় বিপদের মধ্যে পড়েছে। এক ছাত্রী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে উঁচু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য শিক্ষার্থীরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটতে থাকে। তাদের পেছন পেছন ছুটছিলেন দাওয়াদিও।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা একটি বোধিবৃক্ষের নিচে আশ্রয় নেয়। ঠিক তখনই ভয়ংকর স্রোত স্কুল ভবনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মীদের প্রায় সবাই প্রাণে বেঁচে যান। তবে স্কুলের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক ৩২ বছর বয়সী সান্তোষ পারিয়ার বাঁচতে পারেননি। নদীর পাশে ভাড়া বাসায় নাশতা রান্না করতে ফিরে গিয়ে তিনি স্রোতে ভেসে যান। স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামাও দরজা বন্ধ করতে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারান।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাওয়াদিকে নায়ক হিসেবে দেখছেন। তবে নিজেকে নায়ক মনে করেন না তিনি।

যুবায়ের/মি.

মতামত দিন

শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।