তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব হবে তখনই, যখন দেশে একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, শুধু আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করলেই হবে না; বরং যে কারণে মানুষকে রাস্তায় নামতে হয়েছে, সেই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আর রক্ত দিতে না হয়।
বুধবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে বুয়েট শিক্ষক সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার আগে ও পরে বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবার আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দীর্ঘ সময়েও আমরা একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। ফলে প্রতিটি প্রজন্মকেই গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য নতুন করে সংগ্রাম করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি কেন বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে শুধু গর্বের বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না, বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যতে কোনো নাগরিককে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মেধাবী ও যোগ্য মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখার সুযোগ পান না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হওয়া উচিত এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র টেকসই হয় না।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আত্মত্যাগের পরও যদি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করা না যায়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে আরও গভীর গবেষণা ও আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো গবেষণা, বিশ্লেষণ ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের শিক্ষক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীরাই সমাজের আলোকিত অংশ। তাদের গবেষণা ও মুক্তচিন্তার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত গুরুত্ব তুলে ধরা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হবে।
বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বুয়েটের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী এবং পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।