ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তাব্যবস্থা দিন দিন উন্নত হচ্ছে। দ্বিস্তর যাচাইকরণ, লগইন সতর্কতা, পাসকি ও এআইভিত্তিক সুরক্ষা যুক্ত হলেও অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। কখনো ব্যবহারকারীর অসতর্কতা, আবার কখনো অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে সাইবার অপরাধীরা।
প্রতারণার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ত্রুটিও ঝুঁকি
ফিশিং লিংক, ভুয়া নিরাপত্তা সতর্কতা, নকল কাস্টমার সাপোর্ট এবং দুর্বল বা পুনর্ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড এখনো অ্যাকাউন্ট হারানোর পরিচিত কারণ। প্রতারকরা অনেক সময় অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে পাসওয়ার্ড বা যাচাইকরণ কোড হাতিয়ে নেয়। আবার পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করেও ফাঁদে ফেলা হয় ব্যবহারকারীদের।
তবে ঝুঁকি শুধু ব্যবহারকারীর ভুলে সীমাবদ্ধ নয়। গেল জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত মেটার এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত সাপোর্ট ব্যবস্থার একটি ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ২০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট দখলের ঘটনা ঘটেছিল। ত্রুটিটি ছিল, পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের অনুরোধে দেয়া ই-মেইল ঠিকানাটি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে মেলে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই না করা। মেটা জানিয়েছিল, সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ, তবু সতর্কতা জরুরি
মেটা ২০২৬ সালের মার্চে জানায়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নতুন অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় বিশ্বজুড়ে ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার সহজ করতে এআই-সহায়তা, উন্নত নিরাপত্তা যাচাই এবং পাসকি ব্যবহারের সুবিধা বাড়ানোর কথাও জানায়। পাসকির মাধ্যমে আঙুলের ছাপ, মুখ শনাক্তকরণ বা ডিভাইসের পিন ব্যবহার করে লগইন করা যায়।
অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
বিশেষজ্ঞ নিরাপত্তা নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে আলাদা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দ্বিস্তর যাচাইকরণ চালু রাখা এবং লগইন সতর্কতা সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। অপরিচিত লিংকে পাসওয়ার্ড বা যাচাইকরণ কোড দেয়া যাবে না। নিয়মিত লগইন করা ডিভাইস পরীক্ষা করতে হবে এবং সন্দেহজনক অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টের তথ্য সরিয়ে ফেলতে হবে। অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে দ্রুত অফিসিয়াল পুনরুদ্ধার পদ্ধতি ব্যবহার করা জরুরি।
নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও ব্যবহারকারীর সতর্কতা এবং অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নয়, সন্দেহজনক বার্তা শনাক্ত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখাও জরুরি।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।