দীর্ঘ ১২ বছর পর ইসলামী বক্তা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন তিন আসামি আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন এবং আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী আদালতে হাজির হন। কারাগারে থাকা আসামি হাদিসুর রহমান সাগরকে ভার্চ্যুয়ালি আদালতে উপস্থিত করা হয়। তবে অপর দুই আসামি মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে ছয় আসামি হলেন—হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার এবং রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নিজ বাসায় হত্যা করা হয় মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে। হত্যার পর বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ফয়সাল ফারুকী শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তদন্তে মতাদর্শগত বিরোধের জেরে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি অংশের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগপত্রে হত্যার আগের দিন আশুলিয়ায় বসে হত্যার পরিকল্পনা করার কথাও বলা হয়েছে।
ফারুকী সুফি মতাদর্শের অনুসারী ও মাজারকেন্দ্রিক ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, অভিযোগপত্রে অভিযুক্তদের জেএমবি মতাদর্শের অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগের বিচার এখন সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এগোবে।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।