শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুসিচ। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদ ছাড়েন তিনি। তার পদত্যাগে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ খুলেছে।
আগামী অক্টোবরে সার্বিয়ায় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও ওই নির্বাচনে নিজ দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়বেন ভুসিচ। সংবিধান অনুযায়ী, তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই তার।
২০২৪ সালে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর ভুসিচ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জোরালো হয়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক থেকে শুরু করে শ্রমিক-কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে যোগ দেন। পরে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ওই দুর্ঘটনা ভুসিচের নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘদিনের অনিয়ম সামনে এনেছে। আন্দোলনের মুখে সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পদত্যাগ করলেও বিক্ষোভ থামেনি।
নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
ভুসিচ ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি তিনি সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং চীনা বিনিয়োগের জন্য দেশটির অর্থনীতি উন্মুক্ত করেছেন।
শর্ত সমূহ:
অশালিন শব্দ/বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না। কারো প্রতি আক্রমনাত্বক বক্তব্য পেশ করা যাবে না।